বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

বাবার পরে মায়ের মৃ ত‌্যু, অস’হায় এতিম যমজ শিশু!

বাবার পরে মায়ের মৃ ত‌্যু, অস’হায় এতিম যমজ শিশু!

বাবার পরে মায়ের মৃ ত‌্যু- শুক্রবার (২০ মা’র্চ) দুপুর। অ’সু’স্থ‌ স্ত্রী’ জেসমিন আক্তারকে (২২) শায়েস্তাগঞ্জে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান নোমান মিয়া (২৫)। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজে’লার নূরপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আবদুল মতলিবের ছে’লে।স্ত্রী’কে ডাক্তার দেখিয়ে ফে’রার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ নূরপুর এলাকায় দু র্ঘটনার শি’কার হয় নোমান মিয়াদের অটোরিকশা।

একটি বাস সামনে থেকে অটো রিকশাটিকে ধা’ক্কা দেয়। এতে ঘট’নাস্থ’লেই মা রা যান নোমান মিয়া। অটোরিকশার চালকসহ অ’পর দুই যাত্রী আহ ত হন। এদের মধ‌্যে নোমানের স্ত্রী’ জেমিনের অবস্থা গু’রু’তর ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মা’র্চ) বিকেলে সিলেট ওসমানী মে’ডিকে’ল কলেজ হাস পাতালে চিকিৎ সাধীন অবস্থায় মৃ ত‌্যু হয় জেসমিনের।

শুক্রবার (২৭ মা’র্চ) নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মুখলিছ মিয়া এ ত’থ‌্য নি’শ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জেসমিনের দা ফন সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, বাবা-মায়ের মৃ ত‌্যুর পর এতিম ও অসহা’য় হয়ে পড়েছে তাদের যমজ কন‌্যাশি’শু। শি’শু দুটির বয়স মাত্র দেড় বছর। অসহা’য় এ শি’শুদের দুর্ভা’গ‌্য এলাকাবাসীকে আবেগা’প্লু’ত করে তু’লেছে। তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও শি’শু দুটিকে নিয়ে দুশ্চি’ন্তায় পড়েছেন। শি’শু দুটি বর্তমানে তাদের দাদা-দাদীর কাছে আছে।

ভাইরা স নয়, গরিবের চিন্তা ‘খামু কী’

নভেল করোনাভাইরা সে যখন গোটা বিশ্ব আতঙ্কি ত, তখন তা নিয়ে কোনো উদ্বেগই দেখা গেল না রনজি মিয়ার, তার ভাবনার বিষয় রিকশাযাত্রী কম হওয়া নিয়ে। গাইবান্ধা সদরের খোলাবাড়ি এলাকার রনজি মিয়া কয়েক বছর ধরে রিকশা চালান ঢাকায়, রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিলেন তিনি।

বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে সংক্র মিত হওয়ার পর বাংলাদেশেও কভিড-১৯ রো গে আক্রা ন্ত ও মৃ তু্যর পর জনসমাগম ও গণপরিবহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। ফলে অফিস-আদাল ত খোলার দিন রোববারও রাজধানীতে বাইরের মানুষের সংখ্যা ছিল কম; যা চোখে পড়েছে রনজি মিয়াসহ অন্য রিকশাচালকদের।

তারা বলেন, আগে দিনে ৭০০-১০০০ হাজার টাকা আয় হলেও এখন ৫০০ টাকাও হয় না। গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন না কেন- এই প্রশ্নে রনজি মিয়া বলেন, ‘বাড়িতে গিয়ে খামু কী? কাজ-কাম তো নাই।’ নভেল করোনাভাইরা সের কথা শুনেছেন, কিন্তু তা নিয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি তারা।

‘করো’না শুনি, তয় গরিব মানুষ, অত হিসাব করি না,’ বলেন রনজি মিয়া। ঘনঘন হাত ধোয়া কিংবা অন্যের স্প র্শ এড়িয়ে চলার বিষয়েও কোনো সচেতনতা নেই তার। ”সকালে নাস্তা করি হাত ধুইয়া আবার খাওনের আগে হাত ধুই।

কেউ ব্যাগ ধরতে বললে ধরি। গরিব মানুষ এত ‘ইয়ে’ করে লাভ আছে?” ৬ রনজি মিয়ার মতো অটোরিকশাচালক হাবিবুর রহমানের দুর্ভা’বনা যাত্রী কম হওয়া নিয়ে; কার ণ তারও দিন আনি দিন খাই অবস্থা। ‘করোনা আত ঙ্কে মানুষ কম। জমার টাকাও ঠিকমতো দিতে পারি না,’ বলেন তিনি।

হাবিবুর থাকেন যাত্রাবাড়ী ভাঙা প্রেস এলাকায়। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বৌদ্ধনাথ গ্রামে। হাত ধোয়া, গাড়ি জী বাণুমুক্ত করার কাজটিতে উদাসীন হাবিবুরও। ‘দেখেন এত কিছু বুঝি না। যাত্রী নামার পর গাড়ি ন্যাকড়া দিয়ে মুছে নেই।’

কারও সঙ্গে দেখা হলে হাত মেলানোর মতো কাজটিও করে যাচ্ছেন হাবিবুর, যেখানে স্বাস্থ্যঝুঁ কি এড়াতে, তা না করার কথাই বলা হচ্ছে বারবার। ঢাকার বাসের হেলপার, যারা সারাক্ষণই বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে বহু মানুষের সংস্প র্শে আসছেন, তাদের কোনো বিকার দেখা গেল না ভাইরা স সংক্রম ণ নিয়ে।

রোববার দুপুর ১২টায় বাহন পরিবহণের মিরপুরগামী একটি বাস জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থামলে তার হেলপারকে যাত্রীদের স্প র্শ করেই বাসে ঢোকাতে দেখা যায়। সেখানে দাঁড়ানো এক ব্যক্তি বলে ওঠেন, ‘করোনার জন্য সবাইকে অন্তত ছয় ফুট দূরত্ব রেখে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাসে এভাবে আলি ঙ্গন করে উঠলে তো পরিস্থিতি ভ য়াবহ রূপ নেবে।’

সাভারগামী ওয়েলকাম ট্রান্সপোর্টের একটি বাস থামার পর সেখানেও দেখা যায় একই অবস্থা। বাসটির হেলপারের কাছে জানতে চাওয়া হলো হাত ধোয়া হয় কিনা এবং জী বাণুনাশক ব্যবহার করা হয় কিনা? ‘আগে যেইভাবে চলতাম, এখনো সেইভাবেই চলি,’ উত্তর এলো তার কাছ থেকে, অর্থাৎ নভেল করোনাভাইরা স নিয়ে কোনো স’তর্ক বার্তা তাকে ছোঁয়ায়নি।

তবে মৈত্রী পরিবহণের বাসমালিক মনজু মোলস্না বলেন, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পরিবহণকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নৌযানগুলোতে কী অবস্থা- জানতে দুদিন আগে সদরঘাটে বিআইডবিস্নওটিএর পরিবহণ পরিদর্শকের কক্ষে গেলে তখনই একজন লঞ্চের মাস্টার ঢুকে একটি হেক্সিসলের বোতল দেখে বলে ওঠেন- ‘এইটা আবার কী?’

তখন সেই পরিদর্শক বললেন, ‘বুঝলাম আপনারা এখনো লঞ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন না এবং নিজেরাও এই উদ্যোগ নিচ্ছেন না।’ রোববার সেই লঞ্চ মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন সব ‘ঠিক আছে’। নিজেরা পরিচ্ছন্ন থাকেন এবং লঞ্চও পরিষ্কার রাখেন।

এমভি টিপু লঞ্চের ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ বলেন, তাদের কোম্পানির ১৮টি লঞ্চ রয়েছে, কর্মচারী অন্তত ৯০০। সবাইকে হেক্সিসল ব্যবহারসহ লঞ্চ পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে গণপরিবহণের মতো রাজধানীতে বিচরণরত সাধারণ মানুষের অনেকের মধ্যেই তেমন সচেতনতা দেখা যায়নি, যদিও তাদের অনেকে মুখে মাস্ক পরেই নিজেকে সুরক্ষিত ভাবছেন।

রোববার সচিবালয়ের পূর্ব পাশের ফটকে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ, তেল, চিনি কিনতে শতাধিক মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যাদের একজনের সঙ্গে আরেকজনের গা লাগালাগির অবস্থা ছিল। তা দেখে পাশের একজন বললেন, ‘মাস্ক লাগিয়ে লাভ কী, যদি এভাবে জট ধরে দাঁড়ান।’

কিন্তু এতেও লাইনে দাঁড়ানোর মানুষের কোনো গা করতে দেখা যায়নি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বললেন, ‘আমাদের মাস্ক লাগে না। কিছুই হবে না।’ এত উদাসীনতার মধ্যেও ব্যতিক্রম পাওয়া গেল মো. শাহজাহানকে; ঘুরে ঘুরে পান বিক্রি করেন তিনি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হেক্সিসলের একটি বোতল সঙ্গে রেখেছেন তিনি।

তবে তারও দুর্ভা’বনার বিষয়, বেচা-বিক্রি কমে গেছে। পান বিক্রেতা শাহজাহানের মতো দুর্ভাবনা মৎস্য ভবনের সামনের রাস্তায় বসে থাকা মুচি রিপনেরও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে থাকেন গোলাপবাগে। উদ্বি’গ্ন কণ্ঠে রিপন বলেন, ‘আয় নেই, এখনই চলতে পারছি না। সামনে যে কী হবে, বুঝতে পারছি না।’

এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Bdnews48.com
Design & Developed BY Kobir IT